প্রথম পাতা > উইকিম্যানিয়া > গন্তব্য আর্জেন্টিনাঃ অনিশ্চয়তা এবং শেষবারের মত চেষ্টা

গন্তব্য আর্জেন্টিনাঃ অনিশ্চয়তা এবং শেষবারের মত চেষ্টা


২২শে আগস্ট, ইউসুফ সেরাই, নয়া দিল্লী, ইন্ডিয়া। গেস্ট হাউসে অলস সময় কাটছে। দুবাইয়ের ফ্লাইট ২৪ তারিখ। নয়া দিল্লীতে শুধু আর্জেন্টিনার ভিসা নেওয়ার কাজ ছিল, ভিসা হয়ে গেছে। তাই কোন কাজ নেই। গেস্ট হাউসের ঘরেই টিভি দেখে সময় কাটছে। দুপুরে নান রুটি আর ডাল মাখানি নামক খাবার দিয়ে লাঞ্চ সারার পর সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে কিছু ইমেইল আদান প্রদানের কাজ সেরেছি। অনেকেই বলবেন, সময় আছে দিল্লী ঘুরলেইতো পারেন। দিল্লী ঘুরে দেখা যেত, কিন্তু একা একা কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না। একে তো প্রচন্ড গরম তার উপরে একা দিল্লী ঘুরে বেড়ানোর খরচা অনেক। নয়া দিল্লীর যে এলাকাতে রয়েছি সেখানে রাস্তা ঘাটে অটো (ঢাকার সিএনজি) আর ক্যাব ছাড়া দিল্লীতে নতুনদের চলাচলের কোনো উপায় নেই। প্রাইভেট গাড়ি ছাড়া নয়া দিল্লীর এই এলাকায় যে বাসগুলো রয়েছে আমি তাতে সব সময়ই ভীর দেখেছি। আর যেহেতু হিন্দী পড়তে পারি না তাই বাসের গাঁয়ে লেখা গন্তব্যস্থল দেখেও বোঝার উপায় নাই এ গাড়ি কোথায় যাচ্ছে। এ জন্যই সময় কাটানোর জন্য ব্লগটি চালিয়ে যাই,

ঢাকা ভারতী দূতাবাসে ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিয়ে যেই জানতে পারলাম যে পাসপোর্ট ফিরত দিবে ১৯ তারিখ বিকেল বেলা। মাথায় প্রথমেই খেলে গেলো ১৯ তারিখ সকাল বেলা জেট এয়ারের যে টিকিট কনফার্ম করা ছিল তা পরিবর্তন করার কোনো উপায় আছে কিনা। ভিসা অফিসের ভিতর থেকেই বাবাকে ফোন দিলাম। এমিরেটস এয়ারলাইনে বাবার এক বন্ধু চাকুরী করতেন। তার থেকে জেনে আব্বা জানালেন মতিঝিলে ঘরোয়া রেস্টুরেন্টের অপর দিকে জেট এয়ারের একটি টিকিট বুথ আছে, সেখানে যোগাযোগ করতে। ভিসা অফিস থেকে বেড়িয়েই সেজ মামাকে বললাম মামা বাসায় না সরাসরি মতিঝিল জেট এয়ারের অফিসে যাবো। মামাও না করলেন না। মতিঝিল নেমে বেশ খানিকটা খুজেই ঢুকে পরলাম জেট এয়ারের অফিসে। দুপুর ১.৩০টা তখন। কাউন্টারে বসা ব্যক্তিকে আমার ই-টিকিটের কপি দেখিয়ে বললাম ১৯ তারিখের জেট এয়ারের ফ্লাইটটি ২০ তারিখে করে দিতে হবে। তিনি জানালেন প্রতিদিন সকালবেলা একটি ফ্লাইটই রয়েছে। আমি তা পরিবর্তন করে দিতে বললাম। টিকিট বুথের লোকটি তার সামনে বসা কম্পিউটারে ফ্লাইট পরিবর্তন করে, একটি কাগজ প্রিন্ট করে দিলেন। আর বললেন পুরো টিকিটটিই এমিরেটস এয়ারলাইনের ডকুমেন্টে করা হয়েছে, আমাকে এমিরেটস এর মতিঝিল অফিসে যেতে বললেন, সেখান থেকে আমার টিকিটটি রিভ্যালিড করে দেওয়া হবে।

আমি জানতাম এ অফিসেই বাবার সেই বন্ধুকে পাওয়া যাবে। বাবাকে জানাতেই বাবা আমাকে তার কাছে যেতে বললেন। জেট এয়ারের অফিস থেকেই মতিঝিলের অফিসে যাচ্ছি বললেন, আর তো সহ্য হচ্ছে না রে…। প্রচন্ড বেগ পেয়েছে। মামাকে বললাম চলেন সোনালী ব্যাংকে ঢুকি। সেখানে কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংকে ঢুকলাম, এতো বড় অফিস আমি এর আগে কখনও দেখিনি। নিচ তলাতে কোনো ব্যবস্থা পেলাম না, অনেককে জিজ্ঞাসা করার পর দোতলাতে টয়লেটের ব্যবস্থা খুজে পেলাম। সোনালী ব্যাংক থেকে বেড়িয়েই সোজা এমিরেটসের অফিসে চলে গেলাম। বাবার বন্ধু সাথে দেখা করতেই তিনি কম সময়ে কাজটি সেড়ে দেওয়া ব্যবস্থা করলেন। কাউন্টারে বসা ব্যাক্তিকে সব কিছু খুলে বললাম এবং জেট এয়ার থেকে দেওয়া প্রিন্ট করা কাগজ দেখালাম। ঐ ব্যাক্তি অনেকক্ষণ যাবৎ কম্পিউটার দেখে বললেন, আগের টিকিটের সকল ফ্লাইট বাতিল করে, নতুন করে আবারও টিকিটি ইস্যু করতে হবে। সমস্যা হল ফ্লাইট বাতিল করে আবারও টিকিট ইস্যু করার সময় ফ্লাইটে সিট পাওয়া যাবে কিনা তা নিশ্চিত না। লোকটি অনেকক্ষণ চেষ্টা করে শেষে জানালেন, সব ফ্লাইটে সিট পাওয়া গেছে। তবে এখন টিকিট ইস্যু করতে সময় লাগবে। তাই আমাকে আগামীকাল সকালে আসতে বললেন। তারা আমাকে টিকিট নতুন করে প্রিন্ট করে দিবেন। ভাবলাম যাক, যদি ১৯ তারিখ বিকেলে ভারতীয় ভিসা পাওয়া যায় তাহলে ২০ তারিখ সকালে নয়া দিল্লী যাওয়া যাবে। সিদ্ধান্ত নিলাম ২০ তারিখ সকালে নয়া দিল্লী যাওয়া গেলে, দিল্লী এয়ারপোর্ট থেকেই সরাসরি নয়া দিল্লীর ভাসান্ত ভিহারে আর্জেন্টিনার দূতাবাসে চলে যাবো। তারপর দেখা যাবে কি হয়। ১৯ তারিখ বিকালবেলা ভারতীয় ভিসাটি যেন পাওয়া যায় শুধু আশায় রইলাম।

১৯শে আগষ্ট দুপুর ৩টা। আবারও সেজ মামাকে নিয়ে রওয়ানা হলাম পাসপোর্ট ফেরত নিতে। রাস্তায় নেমেই কোন সিএনজি, ক্যাব কিছুই পেলাম না। বাধ্য হয়ে বাসে চড়তে হলো। কিন্তু প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি মোড়ে ট্রাফিক জ্যাম পার করে ভিসা অফিসে পৌছতে বেজে গেল সন্ধ্যা ৬টা। ধারণা ছিলনা পাসপোর্ট ফিরত নেওয়ার সময়ও ঠিক আগের মতই লাইনে দাড়াতে হবে। ভাগ্য ভাল না খারাপ কিছু বুঝতে পারলাম না। বৃষ্টি শুরু হলো। বৃষ্টি শুরু হওয়াতে ভিসা অফিসের বাইরে খোলা আকাশের নিচে যারা রাস্তায় ছিলেন। তাদের ভিতরে ছাঁদের নিচে দাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হল। সেজ মামাকে ব্যাগ দিয়ে, তাকে বৃষ্টির মধ্যে রেখেই আমি ভিতরে চলে গেলাম। তখন প্রায় ৬.৩০। জানতে পারলাম এখনও নাকি পাসপোর্টের বাক্স ভিসা অফিসে পৌছেনি। তাই পাসপোর্ট দিতে দেরি হচ্ছে। বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি। জানি না মামা কোথায় দাড়িয়েছেন। কিছুক্ষণ পরে এক এক করে বাক্স আসা শুরু করলো। আরও জানতে পারলাম এর আগেই বেশ কিছু লোককে ভিতরে নেওয়া হয়েছে, তাই ভিতরে বসার জায়গা নাই। এমনিতে কোনো টেনশন কাজ করছিল না। কারণ যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা নিয়ে ফেলেছি, ভিসা পেলে আগামীকাল নয়া দিল্লীর বিমান ধরবো, না হয় পুরো সফর বাতিল।

টোকেনে লাল রঙের স্টিকার লাগানো ব্যক্তিদের ভিতরে ঢাকা হল। তারা একে একে বেরিয়ে আসলে মিনিট ১৫ পরেই ব্লু রঙের স্টিকার লাগানো ব্যক্তিদের ঢাকা হল। আমার টোকেনও ব্লু রঙের ছিল। চলে গেলাম তিন তলাতে। পাসপোর্ট পেলাম। তাতে ৩০ দিনের ভিসা লাগানো ছিল। ভিসা পেয়ে খুশি হবো কিনা বুঝতে পারলাম না, কারণ আগামীকালই ভিন দেশের অচেনা শহরে আবারও ভিসার জন্য ঘুরতে হবে। ঢাকাতো ছিল চেনা শহর এবার শুরু হবে অচেনা শহরে সময়ের সাথে যুদ্ধ।

নয়া দিল্লী যাবার প্রস্তুতি এবং সেখানে ভিসা তোলার গল্প পরের পর্বে জানবেন।

  1. akash
    মে 28, 2010; 5:03 অপরাহ্ন এ

    naya delhi jabar prostuti r shekhane visa tolar golpo jei porbe ache sheta to pacchi na … ektu ki help korben … coz apnar argentina jabar xperience ta amar jana khub dorkar. thnx

  2. akash
    মে 28, 2010; 5:04 অপরাহ্ন এ

    naya delhi jabar prostuti r shekhane visa tolar golpo jei porbe ache sheta to pacchi na … ektu ki help korben … coz apnar argentina jabar xperience ta amar jana khub dorkar. thnx

  1. No trackbacks yet.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: